Add more content here...
Dhaka ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
নোটিশঃ
প্রিয়" পাঠকগণ", "শুভাকাঙ্ক্ষী" ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে:- কিছুদিন যাবত কিছু প্রতারক চক্র দৈনিক ক্রাইম তালাশ এর নাম ব্যবহার করে প্রতিনিধি নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তার সাথে একটি সক্রিয় চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্ন ভাবে "দৈনিক ক্রাইম তালাশ"কে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মনে রাখবেন "দৈনিক ক্রাইম তালাশ" এর অফিসিয়াল পেজ বা নিম্নের দুটি নাম্বার ব্যাতিত কোন রকম লেনদেনে জড়াবেন না। মোবাইল: 01867329107 হটলাইন: 01935355252

নিরাপত্তাকর্মী থেকে বিসিএস ক্যাডার

  • Dulal Hossain
  • Update Time : ০৭:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩
  • ১২৮ Time View

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা:কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলাধীন ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের বাকারায় মধুপুর (দালালীপাড়া) গ্রামের জনাব মোঃ ছকিয়ত আলী এবং জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান জনাব মোঃ জিয়াউর রহমানের কথা। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। দিনমজুর বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন এবং মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন।
৪১তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত জনাব মোঃ জিয়াউর রহমান স্থানীয় নতুন অনন্তপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ধরণীবাড়ি লতিফ রাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে ৪.৬৭ পেয়ে তিনি আলিম পাশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি পরবর্তীতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি অনার্সে সিজিপিএ-৩.৪১ লাভ করেন। এপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বিসিএস পরীক্ষার আবেদন করেন।
বিদ্যুতের আলো, হারিকেন কিংবা কুপি কোনটাই তার ভাগ্যে জোটেনি। কেরোসিন তেল না থাকায় প্রায়শই তিনি মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করেছেন। খাট, চৌকি, টেবিল, চেয়ার – কোনটাই ছিল না তার। বাঁশের টং বানিয়ে সেখানেই পড়াশোনা করেছেন। পাশের বাড়ি থেকে চেয়ে এক প্লেট ভাত এনে দিয়েছেন দুখিনী মা। সেই ভাত আলু ভর্তা দিয়ে খেয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন জিয়াউর। শোয়ার জন্য ভালো ঘর কিংবা বিছানা ছিলনা তার। গোয়াল ঘরের একপাশে গরু-ছাগল আরেক পাশে ছিলেন তিনি।
নিজ এলাকায়, মুন্সিগঞ্জে, ঢাকা শহরে, রাজশাহীতে বিভিন্ন সময়ে ফাস্টফুডের দোকানে, ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে, ঔষধ কোম্পানীতে কিংবা অন্যের বাসায় দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি বা নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন দিনের বেলায়। আর রাত্রিতে করেছেন পড়ালেখা। অর্থনৈতিক সংকট, অভাব কিংবা দারিদ্র্য তার পড়ালেখার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দৃঢ় প্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস, অসীম সাহস এবং অদম্য স্পৃহা তাকে নিয়ে এসেছে বহুদূর। জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া জিয়াউর রহমান এবং তার পিতা-মাতার চোখে এখন শুধু আনন্দ অশ্রু। এ বছরের (২০২৩) জানুয়ারি মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার চাকুরী জীবন শুরু হয়।
শত শত যুবকের প্রেরণা এই জিয়াউর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান করেন রক্তিম ফাউন্ডেশন, উলিপুর, কুড়িগ্রাম। উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব কাজী মাহবুবুর রহমান, উলিপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ জনাব মোঃ আবু যোবায়ের আল মুকুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা. মেশকাতুল আবেদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মো:তারিফুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি শিল্পী ও প্রশিক্ষক জনাব মোঃ আরিফ হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জনাব নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, অক্সফোর্ড মডেল পাবলিক স্কুলের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তরুণ লেখক নাজমুল হাসান ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নিরাপত্তাকর্মী থেকে বিসিএস ক্যাডার

Update Time : ০৭:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা:কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলাধীন ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের বাকারায় মধুপুর (দালালীপাড়া) গ্রামের জনাব মোঃ ছকিয়ত আলী এবং জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান জনাব মোঃ জিয়াউর রহমানের কথা। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। দিনমজুর বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন এবং মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন।
৪১তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত জনাব মোঃ জিয়াউর রহমান স্থানীয় নতুন অনন্তপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ধরণীবাড়ি লতিফ রাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে ৪.৬৭ পেয়ে তিনি আলিম পাশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি পরবর্তীতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি অনার্সে সিজিপিএ-৩.৪১ লাভ করেন। এপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বিসিএস পরীক্ষার আবেদন করেন।
বিদ্যুতের আলো, হারিকেন কিংবা কুপি কোনটাই তার ভাগ্যে জোটেনি। কেরোসিন তেল না থাকায় প্রায়শই তিনি মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করেছেন। খাট, চৌকি, টেবিল, চেয়ার – কোনটাই ছিল না তার। বাঁশের টং বানিয়ে সেখানেই পড়াশোনা করেছেন। পাশের বাড়ি থেকে চেয়ে এক প্লেট ভাত এনে দিয়েছেন দুখিনী মা। সেই ভাত আলু ভর্তা দিয়ে খেয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন জিয়াউর। শোয়ার জন্য ভালো ঘর কিংবা বিছানা ছিলনা তার। গোয়াল ঘরের একপাশে গরু-ছাগল আরেক পাশে ছিলেন তিনি।
নিজ এলাকায়, মুন্সিগঞ্জে, ঢাকা শহরে, রাজশাহীতে বিভিন্ন সময়ে ফাস্টফুডের দোকানে, ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে, ঔষধ কোম্পানীতে কিংবা অন্যের বাসায় দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি বা নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন দিনের বেলায়। আর রাত্রিতে করেছেন পড়ালেখা। অর্থনৈতিক সংকট, অভাব কিংবা দারিদ্র্য তার পড়ালেখার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দৃঢ় প্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস, অসীম সাহস এবং অদম্য স্পৃহা তাকে নিয়ে এসেছে বহুদূর। জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া জিয়াউর রহমান এবং তার পিতা-মাতার চোখে এখন শুধু আনন্দ অশ্রু। এ বছরের (২০২৩) জানুয়ারি মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার চাকুরী জীবন শুরু হয়।
শত শত যুবকের প্রেরণা এই জিয়াউর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান করেন রক্তিম ফাউন্ডেশন, উলিপুর, কুড়িগ্রাম। উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব কাজী মাহবুবুর রহমান, উলিপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ জনাব মোঃ আবু যোবায়ের আল মুকুল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা. মেশকাতুল আবেদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মো:তারিফুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি শিল্পী ও প্রশিক্ষক জনাব মোঃ আরিফ হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জনাব নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, অক্সফোর্ড মডেল পাবলিক স্কুলের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তরুণ লেখক নাজমুল হাসান ।