Add more content here...
Dhaka ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশঃ
প্রিয়" পাঠকগণ", "শুভাকাঙ্ক্ষী" ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে:- কিছুদিন যাবত কিছু প্রতারক চক্র দৈনিক ক্রাইম তালাশ এর নাম ব্যবহার করে প্রতিনিধি নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তার সাথে একটি সক্রিয় চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্ন ভাবে "দৈনিক ক্রাইম তালাশ"কে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মনে রাখবেন "দৈনিক ক্রাইম তালাশ" এর অফিসিয়াল পেজ বা নিম্নের দুটি নাম্বার ব্যাতিত কোন রকম লেনদেনে জড়াবেন না। মোবাইল: 01867329107 হটলাইন: 01935355252

দেশে প্রথম ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট হচ্ছে গাজীপুরে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ১১৩ Time View

এস,কে কৃষ্ণা,ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফঃ সেলফোন-ল্যাপটপ থেকে শুরু করে রেফ্রিজারেটর-এয়ার কন্ডিশনারের মতো বিলাসপণ্য এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এগুলোর ব্যবহার-উত্তর বর্জ্যের পরিমাণ। ব্যক্তিগতভাবে অনেক ব্যবসায়ী এসব ইলেকট্রনিকস (ই) বর্জ্য রিসাইকেলিং করেন। তবে সেখানে রয়েছে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব দিক বিবেচনায় রেখে দেশে প্রথম ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ হচ্ছে গাজীপুরে।

পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) নামে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের চতুর্থ কম্পোনেন্টের অধীনে নির্মাণ হবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। এজন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের উপপরিচালক মো. মাহফুজুল কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দ্রুত উদীয়মান অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ‌বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও। শহর-গ্রাম সর্বত্র ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০৩০ সালে ই-বর্জ্যের বার্ষিক পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬ লাখ টন। দেশে এখনো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ রিসাইকেলিং সিস্টেম গড়ে ওঠেনি।’

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। আমরা ই-বর্জ্য প্লান্ট নির্মাণে প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই হবে। এরপর অবকাঠামোগত কাজ শুরু হবে।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ভূমি উন্নয়ন, ৩৫ ফুট উচ্চতার একটি স্টিল শেড নির্মাণ এবং ইলেকট্রো মেকানিক্যাল ওয়ার্কস্টেশন নির্মাণ হবে। এছাড়া সীমানাপ্রাচীর, ভবন, যানবাহন শেড, আরসিসি সড়ক, ড্রেনেজ সুবিধা, ল্যান্ডস্কেপিং ও আবাসন সুবিধা, পরামর্শ সেবা, সরঞ্জাম ও আসবাব সংগ্রহ করা হবে।

দেশে বছর বছর লাখ লাখ সেলফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, এয়ারকন্ডিশনার, ফটোকপি মেশিনসহ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অকেজো হয়ে যায়। সমস্যা হলো, এসব ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের পরিবেশসম্মত ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নেই। সেগুলোর স্থান হয় অন্যান্য গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে আস্তাকুঁড় বা ডাস্টবিনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশসম্মত উপায়ে রি-সাইকেল করতে পারলে তা সম্পদে রূপান্তর সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. মো. সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌ই-বর্জ্য সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কী উপায়ে এটা সংগ্রহ হবে, তার সঠিক রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি। এক্ষেত্রে যারা ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন করে কিংবা যারা আমদানি করে, তারাই বড় সোর্স। তাদের থেকে সঠিক উপায়ে ই-বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া বাসাবাড়ি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যে বর্জ্য তৈরি হবে, সেটাও পরিকল্পিত উপায়ে সোর্স থেকেই আলাদা করে সংগ্রহ করা জরুরি। এরপর বর্জ্য যখন প্লান্টে চলে আসবে, সেটা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরিবেশের ক্ষতি না করে রি-সাইকেল করতে হবে। যদি এ দুটি মৌলিক বিষয়ে ঘাটতি থাকে, তাহলে ই-বর্জ্য নিয়ে আমাদের যত বড় উদ্যোগই নেয়া হোক, তা সফল হবে না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাংলাদেশি it কোম্পানি

x

দেশে প্রথম ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট হচ্ছে গাজীপুরে

Update Time : ০২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪

এস,কে কৃষ্ণা,ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফঃ সেলফোন-ল্যাপটপ থেকে শুরু করে রেফ্রিজারেটর-এয়ার কন্ডিশনারের মতো বিলাসপণ্য এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এগুলোর ব্যবহার-উত্তর বর্জ্যের পরিমাণ। ব্যক্তিগতভাবে অনেক ব্যবসায়ী এসব ইলেকট্রনিকস (ই) বর্জ্য রিসাইকেলিং করেন। তবে সেখানে রয়েছে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব দিক বিবেচনায় রেখে দেশে প্রথম ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ হচ্ছে গাজীপুরে।

পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) নামে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের চতুর্থ কম্পোনেন্টের অধীনে নির্মাণ হবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। এজন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের উপপরিচালক মো. মাহফুজুল কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দ্রুত উদীয়মান অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ‌বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও। শহর-গ্রাম সর্বত্র ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০৩০ সালে ই-বর্জ্যের বার্ষিক পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬ লাখ টন। দেশে এখনো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ রিসাইকেলিং সিস্টেম গড়ে ওঠেনি।’

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। আমরা ই-বর্জ্য প্লান্ট নির্মাণে প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই হবে। এরপর অবকাঠামোগত কাজ শুরু হবে।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ভূমি উন্নয়ন, ৩৫ ফুট উচ্চতার একটি স্টিল শেড নির্মাণ এবং ইলেকট্রো মেকানিক্যাল ওয়ার্কস্টেশন নির্মাণ হবে। এছাড়া সীমানাপ্রাচীর, ভবন, যানবাহন শেড, আরসিসি সড়ক, ড্রেনেজ সুবিধা, ল্যান্ডস্কেপিং ও আবাসন সুবিধা, পরামর্শ সেবা, সরঞ্জাম ও আসবাব সংগ্রহ করা হবে।

দেশে বছর বছর লাখ লাখ সেলফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, এয়ারকন্ডিশনার, ফটোকপি মেশিনসহ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অকেজো হয়ে যায়। সমস্যা হলো, এসব ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের পরিবেশসম্মত ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নেই। সেগুলোর স্থান হয় অন্যান্য গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে আস্তাকুঁড় বা ডাস্টবিনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশসম্মত উপায়ে রি-সাইকেল করতে পারলে তা সম্পদে রূপান্তর সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. মো. সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌ই-বর্জ্য সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কী উপায়ে এটা সংগ্রহ হবে, তার সঠিক রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি। এক্ষেত্রে যারা ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন করে কিংবা যারা আমদানি করে, তারাই বড় সোর্স। তাদের থেকে সঠিক উপায়ে ই-বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া বাসাবাড়ি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যে বর্জ্য তৈরি হবে, সেটাও পরিকল্পিত উপায়ে সোর্স থেকেই আলাদা করে সংগ্রহ করা জরুরি। এরপর বর্জ্য যখন প্লান্টে চলে আসবে, সেটা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরিবেশের ক্ষতি না করে রি-সাইকেল করতে হবে। যদি এ দুটি মৌলিক বিষয়ে ঘাটতি থাকে, তাহলে ই-বর্জ্য নিয়ে আমাদের যত বড় উদ্যোগই নেয়া হোক, তা সফল হবে না।’